SEO কি? SEO কিভাবে শিখবো (SEO Bangla Tutorial)
SEO কি – এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হল ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার মাধ্যমে যেকোনো ওয়েব পেজে শত শত কিওয়ার্ড এর জন্য সার্চ ইঞ্জিনে জায়গা নিয়ে থাকে এবং যাকে আমরা ইংরেজিতে বলি Rank. (seo bangla tutorial)
আজকে আমরা জানবো SEO কি, কেন করবেন, কিভাবে করবেন, আমি কিভাবে SEO শিখবো সহ আরো কিছু জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।
আপনি যদি SEO সম্পর্কে ভালো করে জ্ঞান নিয়ে নেন তাহালে ডিজিটাল মার্কেটিং সহ নিজের ব্লগিং ক্যারিয়ার সফল করে নিতে পারবেন।
আপনি যদি এসইও কি না জেনে ডিজিটাল মার্কেটিং বা ব্লগিং করেন তাহালে কখনো সফল হতে পারবেন না এবং ট্রাফিক বা ভিজিটর পাবেন না।
SEO কি? (What is SEO in bangla)
এসইও (SEO) এর পূর্ণরূপ হল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (search engine optimization). সহজ ভাষায় বলতে গেলে, গুগল বা অন্য যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনে যখন আমরা কোনো কিছু সার্চ দেয়,
তখন গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিন তার রেজাল্ট পেজে অনেক গুলো রেজাল্ট দেখায়। সেখান খান থেকে আপনাদের পছন্দের লিংকে ক্লিক করে কাঙ্ক্ষিত ওয়েব পেজ ভিজিট করে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পায়।
আর যে কারণে গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিন ওই রেজাল্ট গুলো দেখায়, সেই দেখানোর পদ্ধতিতে কে বলা হয় SEO বা এসইও।
সহজ ভাষায় এসইও কি?
এসইও হল সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনাদের যেকোনো ওয়েবসাইটের পেজকে একটি নিদিষ্ট কিওয়ার্ড এর উপর ভিত্তি করে গুগল, ইয়াহু বিং সহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে প্রথমে অবস্থান করানো হয়।

সহজ ভাষায় এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হল, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট বা ওয়েব পেজকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পৃষ্ঠার আনার একটি প্রযুক্তি গত কৌশল।
সার্চ ইঞ্জিন কি?
সহজ ভাষায় সার্চ ইঞ্জিন হল ইন্টারনেট কিবোর্ড এর মাধ্যমে কোনো বিষয় খোঁজার জন্য যেখানে কিছু লিখে সার্চ দেয় এবং সেটার উত্তর পেয়ে যায় সেটাই হল সার্চ ইঞ্জিন।
যেমন google এর আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য সার্চ করি এবং গুগল তার রেজাল্ট পেজে সমাধান বা উত্তর দিয়ে দেয়। আমি আগের আর্টিকেলে বলেছি সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে।
কেন এসইও (SEO) করবেন?
আমরা সাধারণত ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে রেংক (rank) করানোর জন্য এসইও করি। SEO করার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করি সার্চ ইঞ্জিনে থাকা রেজাল্ট পেজ গুলোর প্রথমে থাকার জন্য।
কারণ, লোকেরা যখন কোনো বিষয় সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ তখন সার্চ রেজাল্ট পেজের প্রথমে থাকা লিংক গুলোতে ক্লিক করে।
একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিস্কার বুঝতে পারবেন,
মনে করুন আপনার একটা ব্লগ ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখানে আপনি SEO ki bangla এই বিষয়ের উপর একটি আর্টিকেল লিখেছেন। এখন আপনি চাচ্ছেন কেউ যখন সার্চ ইঞ্জিনে SEO ki bangla লিখে সার্চ দিবে তখন যেন আপনার আর্টিকেলটি প্রথমে দেখায়।
তাহালে, আপনার ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করে ভিজিটর লেখাটি পড়বে। এই যে পুরো প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার লেখাকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পৃষ্ঠায় নিয়ে এসেছেন সেটাকে SEO বলে।
আশাকরি, এবার আপনারা সহজে বুঝতে পারছেন কেন এসইও করবেন।
SEO কত প্রকার ও কি কি?
ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভাষায় seo বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। তবে, আজকে আমি এসইও এর মৌলিক প্রকার গুলো আলোচনা করবো।
- টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO)
- অন-পেজ এসইও (On-Page SEO)
- কনটেন্ট এসইও (Content SEO)
- অফ-পেজ এসইও (Off-Page SEO)
- মোবাইল এসইও (Mobile SEO)
- লোকাল এসইও (Local SEO)
- ই-কমার্স এসইও (E-commerce SEO)
কিভাবে এসইও (SEO) করবেন?
কিভাবে এসইও (SEO) করবেন বা কিভাবে করা যায় এই প্রশ্নের উত্তর অল্প কথায় দেওয়া সম্ভব না। তবে, অল্প কথার মধ্যে আপনাদের এসইও সম্পর্কে বুঝানোর চেষ্টা করবো।
এসইও সাধারণ দুই ধরনের হয়। যেমন অন-পেজ এসইও এবং অন-পেজ এসইও। এই দুইটা বিষয় আলোচনা করবো।
অন-পেজ এসইও (One-Page SEO) কি?
অনপেজ এসইও সাধারণত ওয়েবসাইটের মধ্যে করা হয়। যেমন কোনো একটি টফিকের উপর আর্টিকেল লিখে সেই আর্টিকেলটিকে seo এর বিভিন্ন বিষয় প্রয়োগ করা হয়।
যেমন, টাইটেল, ইউআরএল, এইচ ১ হেডিং, সাব হেডিং, ইন্টারনাল লিংক, আউটসাইট লিংক, মেটা ডেস্ক্রিপশন, মেটা টাইটেল, বডি কনটেন্ট ইত্যাদি।
এই অপটিমাইজেশন গুলো আপনি ওয়েবসাইটের জন্য যত দক্ষতার সাথে করতে পারবেন ততই দ্রুত আপনার ওয়েবসাইট রেংক (rank) করবে।
এছাড়া, আপনি যখন ই-কমার্স (e-commerce) ওয়েবসাইট এর জন্য বিভিন্ন প্রোডাক্ট পেজ seo করতে হয় যাতে ঔ প্রোডাক্ট সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত রেংক (rank) করতে পারে।
এক্ষেত্রে ঔ প্রোডাক্ট পেজের টাইটেল, প্রোডাক্টের টাইটেল, প্রোডাক্ট মেটা ডেস্ক্রিপশন, মেটা টাইটেল, প্রোডাক্ট ডেস্ক্রিপশন ইত্যাদি বিষয় গুলো খুব ভালো ভাবে করতে হয়।
অপ-পেজ এসইও (Off-Page SEO) কি?
অপ-পেজ এসইও হল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (search engine optimization) এর বাহিরে যে সব প্রয়োগ গুলো ওয়েবসাইটে করা হয়।
যেমন, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, লিংক বিল্ডিং, সাইটেশন বিল্ডিং ইত্যাদি। এগুলো ছাড়াও ফাউন্ডেশন লিংক বিল্ডিং মানে ডিরেক্টরি সাবমিশন, প্রোফাইল তৈরি, ফোরাম ব্যকলিংক বিল্ডিং ইত্যাদি।
যখন কোনো ব্যাক্তি আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর হয়ে এসে আপনার কোনো পেজ পড়ে এবং সেটাকে অন্য জায়গায় মেনশন তাহলে বুঝতে হবে আপনার একটি ব্যকলিংক তৈরি হয়েছে।
সহজ ভাষায় বললে, আপনার ওয়েবসাইটের লিংক বা ইউআরএল (URL) অন্য কোনো ওয়েবসাইটে শেয়ার করার মানে হল লিংক বিল্ডিং।
আশাকরি, অন-পেজ এসইও এবং অপ-পেজ এসইও সম্পর্কে বুঝতে পারছেন।
White Hat SEO এবং Black Hat SEO কি?
অভিজ্ঞ এসইও এক্সপার্টরা (SEO Experts) এসইওকে দুই ভাবে ভাগ করেছে। এই দুইটি ভাগের মধ্যে একটি অনেক ক্ষেত্রে কাজে নাও লাগতে পারে।
আর একটি সময়ের সাথে উন্নত কৌশলের সাথে মিল রেখে আবিষ্কার করা হয়েছে। আসলে মূল কথা হল বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন গুলো তাদের ranking এরগোরিদমে অনেক পরিবর্তন এনেছে।
যার ফলে এখন কিওয়ার্ড (keyword) গুলোর জন্য আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। এক সব দিক মাথায় রেখে নতুন নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসইও কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ
- হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO)
- ব্ল্যাকহ্যাট এসইও (Black Hat SEO)
চলুন এই হোয়াইট হ্যাট এসইও এবং ব্ল্যাকহ্যাট এসইও সম্পর্কে জেনে আসি।
হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO) কি?
হোয়াইট হ্যাট এসইও হল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের সে সব নিয়ম রয়েছে সেই নিয়ম গুলো মেনে কাজ করা বা অনুসরণ করা।
এই নিয়ম গুলো মেনে কাজ করলে অনেক দ্রুত ranking পাওয়া যায়। আপনারা যদি সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম অনুসারণ করে ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন করেন তাহালে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভালো ভিজিটর বা ট্রাফিক পাবেন।
ব্ল্যাকহ্যাট এসইও (Black Hat SEO) কি?
ব্ল্যাকহ্যাট এসইও তে সার্চ ইঞ্জিন এর নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয় না। ওয়েবসাইটকে অনেক দ্রুত সার্চ ইঞ্জিনে রেংক করার জন্য কৃত্রিম ভাবে লিংক বিল্ডিং করা হয়।
সহজর বলতে গেলে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যাকলিংক তৈরি করা হয়। লোকেরা এই ব্যাপারে আবার বেশ আগ্রহী কারণ, এই সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার ব্যাকলিংক তৈরি করা যায়।
আর এই ব্যাকলিংক গুলো তৈরি করে লোকেরা দ্রুত ওয়েবসাইট রেংক করার জন্য এই ব্ল্যাকহ্যাট এসইও ব্যবহার করে থাকে।
তবে, সার্চ ইঞ্জিন গুলো যদি কখনো আপনার এই লিংক গুলোর ফুটপ্রিন্ট ধরে ফেলে তাহালে আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন বাতিল করে দিবে।
বর্তমান সার্চ ইঞ্জিন গুলো অনেক উন্নত যা খুব সহজে এই সব ওয়েবসাইট গুলোকে বাতিল করে দেয়। একবার বাতিল হয়ে গেলে পুনোরায় rank করাতে অনেক কঠিন হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে আবার সম্ভব ও হয় না।
কিভাবে ওয়েবসাইটে এসইও (SEO) করতে হয়?
কিভাবে ওয়েবসাইট এসইও করতে হয় এই বিষয় লিখে শেষ করা যাবে না। তবে, আপনারা কিভাবে ওয়েবসাইট এসইও করবেন এই ব্যাপারে আমি আপনাদের কিছু পরামর্শ দিবো।
আশাকরি আপনাদের পরামর্শ কাজর লাগবে। তাহালে চলুন এসইও এর বেসিক কিছু বিষয় জেনে আসি।
বেসিক এসইও সেটিং (Basic SEO Setting)
- প্রথমে ওয়েবসাইট google search console যুক্ত করতে হবে।
- এরপর bing webmaster tool এ ওয়েবসাইট যুক্ত করতে হবে।
- Google analysis তৈরি করে ওয়েবসাইটে ভেরিফিকেশন করে নিন।
- আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ইউজার হয়ে থাকেন তাহালে Rank Math বা Yoast SEO প্লাগিন ব্যবহার করুন।
কিওয়ার্ড রিসার্চ করুন
আপনার ওয়েবসাইটের ধরন হিসাবে নিশ (nish) সিলেক্ট করে নিন এবং কিওয়ার্ড (keyword) রিসার্চ করুন। সব সময় চেষ্টা করবেন দীর্ঘ মেয়াদি কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করার।
কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য Google Keyword Planner টুল ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য অভিজ্ঞ লোকদেন সাহায্য নিতে পারেন।
অন-পেজ এসইও করুন
পোষ্ট পাবলিশ করার সময় চেষ্টা করবেন পোষ্টের ইউআরএল (URL) যেন ছোট হয়। তাছাড়া পোষ্টের URL এর মধ্যে অবশ্যই কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন।
পোষ্টের টাইটেলে কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন এবং H1, H2, H3 গুলো ব্যবহার করুন। কনটেন্টের সাথে মিল রেখে একটি ইমেজ ব্যবহার করবেন এবং প্রয়োজনীয় এক্সটারনাল বা ইন্টারনাল ব্যবহার করুন।
আর্টিকেল লেখার নিয়ম অনুসারণ করুন
আপনাকে সব সময় ভালো কোয়ালিটির আর্টিকেল লিখতে হবে। মনে রাখতে হবে কনটেন্ট ইজ কিং (content is king). আপনার কনটেন্ট গুলো একটু বড় করে লিখুন এবং ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ আকারে লিখুন যাতে দেখতে সুন্দর এবং ভিজিটর সহজে পড়তে পারে।
প্রয়োজনীয় কনটেন্ট গুলোর মধ্যে ছবি বা ভিডিও যুক্ত করতে পারেন। সব সময় চেষ্টা করবেন সহজ ভাষায় কনটেন্ট লেখার জন্য।
টেকনিক্যাল এসইও করুন
Google search console এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের crawl errors সনাক্ত করে নিন। তাছাড়া গুগল আপনার ওয়েবসাইট কিভাবে দেখছে সেটাও ফাইন্ড আউট করে নিন।
আপনার ওয়েবসাইট অবশ্যই রেস্পন্সিভ এবং মোবাইল ফ্রেন্ডলি করে নিতে হবে। ওয়েবসাইটের স্পিড (speed) বাড়িয়ে নিতে হবে কারণ গুগল সব সময় ফাস্ট ওয়েবসাইট পছন্দ করে এবং রেংক দেয়। আর যদি ব্রোকেন লিংক থাকে তাহালে ঠিক করে নিবেন।
ব্যাকলিংক তৈরি করুন
ওয়েবসাইট দ্রুত রেংক করার জন্য ব্যাকলিংক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক যতই বৃদ্ধি পাবে ততই দ্রুত সাইট rank করবে। ব্যাকলিংক করার জন্য সেরা পদ্ধতি হল অন্য ওয়েবসাইটে গেষ্ট পোষ্ট করা।
তাছাড়া, আপনি বিভিন্ন ব্লগের কমেন্ট সেকশনে নিজের ওয়েবসাইটের URL পুশ করতে পারেন। আবার ডিরেক্টরি তে আপনার আর্টিকেল গুলো যুক্ত করতে পারেন।
ফোরাম পোষ্টং করে ব্যাকলিংক নিতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনি যেসব ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক নিবেন সেই ওয়েবসাইট গুলোর ডোমেইন অথোরিটি যেন হাই কোয়ালিটি হয়।
শেষ কথা
আমার লেখা আর্টিকেলটি সম্পর্ন পড়ে আশাকরি আপনারা বুঝতে পারছেন SEO কি এবং কিভাবে এসইও (SEO) শিখবেন এর ব্যাপারে।
আমি চেষ্টা করি যাতে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য। seo bangla tutorial সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্টে জানাবেন এবং ভালো লাগলে শেয়ার করবেন।
